
২০১৭ এবং এরপর বহু কাঙ্ক্ষিত সন্তান কে ২০২১ সালে হারানোর পরে যখন আমরা পাগল প্রায়,তখন একবছর নিজেদের মত টাইম নিয়ে ২০২২ এ চেন্নাই গেলাম।যদি কোনো কূল কিনারা পাওয়া যায় যে কি কারণে পর পর দুইবার ঠিক একই সময় ২৮ সপ্তাহের আগেই আমাদের সন্তান ডেলিভারি হলো!আর বেঁচেও রইলো না।তহ ইন্ডিয়া যেয়ে তেমন কোনো আশার বাণী ই পেলাম না,,,এর মাঝে একবার oophoritis হয়ে আরো ঝামেলা,,left ovary অনেক টা ছোট,কাজ করছে না,left সাইড ব্লক বলা যায়।তাই যা করার তাতো শুধু মাত্র right sided overy দিয়ে করতে হবে।সন্তান ধারণের আশা ৫০/৫০ আর তাকে বাঁচানোর আশা ,সে তহ অলীক চিন্তা।বহু কষ্টে সন্তান গর্ভে আসলেও তাকে survive করাতে হইলে থাকতে হবে চেন্নাই যেয়ে,,যেটা আমাদের জন্য বেশ কষ্টের ,স্বামীর সরকারি চাকুরীর কারণে,,এতদিন ছুটি সে তহ পাবেই না।এভাবেই সব কিছু অনিশ্চিত আর দুরাশা নিয়ে ২০২২ সাল বিদায় নিল।ওদের দেয়া ভুল ডায়াগনোসিস আর প্রেসক্রিশন অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট চলল,আর ৬/৭ মাস।এরপর দেশের মধ্যে একবার IUI করালাম,,সেটাও failed,,২০২৩ এর ৭মাস এভাবেই শেষ,,বয়স বাড়ছে,বাড়ছে চিন্তা আর হতাশা।এক বাচ্চার পিছনেই পুরা ধ্যান জ্ঞান,,,প্রাপ্তির খাতায় আর কিছুই যোগ হলো না অতিরিক্ত ওজন ছাড়া,,ক্যারিয়ার,জব সব ই ঢিলে ঢালা,,কোনো ভালো কিছুই হলো না।বাংলাদেশে অনেক বড় বড় ডাক্তার দেখাইলাম।ওই বাচ্চা নষ্ট আর ওজন দেখে সবার নিরাশ বাণী।।আর বকা ঝকা ,,একজন ডাক্তার হয়ে শুধু ওজন ই বাড়িয়েছি ,,এসব বাচ্চা নষ্টের পিছনে মূল দায়ী।তারপর বাসায় ফিরে কান্নাকাটি,রাগ,ঝগড়া,,এই cycle এ জীবন ঘুরপাক কয়েকটা বছর জুড়েই।কেঁদে রাত পার করি আবার সকাল এ উঠেই নতুন পথ খুঁজতে থাকি,কি করে এই সমস্যার সমাধান হবে,,কিভাবে মা হবো?!?
এরপর ২০২৩ এর সেপ্টেম্বর এ হঠাৎ করেই প্লাটফর্ম একটা কেস পড়লাম,সাথে সাথেই সেই ডাক্তার ম্যাম কে contact।উনি কিনা আমাদের মেডিকেল এর জুনিয়র এর বড় বোন,,তহ উনি সব শর্টকাট এ শুনে আমার ট্রিটমেন্ট এর জন্য স্লট দিলেন।নিজে ব্রড লেটার এ অনেক হেডলাইন এ হিস্ট্রি নিলেন,,,ঢাকার বাইরে থাকায় টানা ২ দিন ৪ ঘন্টা টাইম ভিডিও কল এ সব হিস্ট্রি নিলেন,ইনভেস্টিগেশন দেখলেন।বুঝলেন এবং একটা কথাই বললেন,”মন টা ভীষণ কষ্ট পেয়েছে, you need tender loving care and appropriate treatment.still there is a hope..” ম্যাডাম এর নির্দেশনা অনুযায়ী ইনভেস্টিগেশন আর তার রিপোর্ট অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট শুরু হলো। এর শুরুতেই আল্ট্রাসাউন্ড করালাম একজন অতি দক্ষ রেডিওলজিস্ট ম্যাডাম কে দিয়ে।উনি বললেন,আমার left overy আবার আগের মতই functional।এই রিপোর্ট টা সত্যি বলতে আমার confidence অনেক বাড়িয়ে দিলো।কিছুটা আশা।এরপর বাকি রিপোর্ট অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট আর lifestyle modification শুরু হলো।প্ল্যান ছিল optimum weight কমিয়ে আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে প্রেগন্যান্সি নেয়া।কিন্তু ম্যাডাম এর দেয়া ম্যানেজমেন্ট,,এক্সারসাইজ,স্ট্রেস রিলিফ breathing এক্সারসাইজ এগুলো করে ওই সাইকেল এই অল্প ওজন কমায় ই সারপ্রাইজ প্রেগন্যান্সি পেলাম,,সেখান থেকেই শুরু হলো ম্যাডাম এর আমার একই সাথে বাবুকে বাঁচায় রাখার একটা সুন্দর desciplined যাত্রা।বার বার উনি একটা কথাই বলতেন
১.ইনসুলিন কে spike করা যাবে না।সুগার control ১০০%।
২.কোনো প্রকার স্ট্রেস ই নেয়া যাবে না।(ফ্যামিলি মেম্বার আর হাজবেন্ড কেও ভালো মতো কাউন্সেলিং করাও হলো ভিডিও কল এর মাধ্যমে।
প্রপার ডায়েট,রেস্ট,ঘুম,সুগার কন্ট্রোল,প্রতি trimester এ নিয়ন্ত্রিত ওজন বাড়ানো (২+২+৪ kg)।আর খুব সামান্য কিছু ওষুধ দিয়ে পুরোটা প্রেগন্যান্সি চলল আর ইনসুলিন ছাড়াই শুধু উনার দেয়া ডায়েট আর অল্প ওষুধেই ডায়াবেটিস পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।যেহেতু আমার preterm birth এর হিস্ট্রি ছিল,তাই circlage লাগবে কিনা,এটা নিয়েও পুরা টেনশন ই ম্যাডাম দক্ষ ভাবে সামলে নিলেন।যেহেতু length ভালো ছিল তাই circlage না দিয়ে ই এবার বাবু ২৮ সপ্তাহ পার করলো গর্ভে,ম্যাম আর আমি দুজন ই প্রথম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।তারপর আরও কয়েকটা সপ্তাহ পার করা।গুণে গুণে সঠিক নির্দেশনা আর ট্রিটমেন্ট এ পুরোটা জার্নি ভালো মতো পার করলাম।খুব ই ভাল ছিলাম।নিজে থেকেই খুব বেশি বের হতাম না,তবে ম্যাডাম এর চিত্তভূমি তে রেগুলার পুরো প্রেগন্যান্সি তে ব্যায়াম করতাম,breathing এক্সারসাইজ করে স্ট্রেস ম্যানেজ করেছি।এগুলো খুব কার্যকরী নিজেকে ফিট রাখতে,,ভালো ঘুম,baby r well being এর জন্য।এভাবে আমি প্ল্যান অনুযায়ী ৩৭ সপ্তাহের পরে একটা সুস্থ মেয়ে বাবুর মা হলাম,বিয়ের দীর্ঘ ৯ বছর পর।পুরো ক্রেডিট আল্লাহর ইচ্ছায় আমার গাইনোকোলজিস্ট ডা. ইসরাত জাহান স্বর্ণা আপুর।উনি আমকে পাখির পালকের মত ৩৮ টা সপ্তাহ আগলে রেখেছেন,রাইট ওয়ে তে ট্রিটমেন্ট করেছেন,আমার এইযে ঠিকঠাক উনাকে মেনে চলা কে appreaciate করেছেন,inspire করেছেন,মা হওয়া কেই,,এটাও তহ অনেক অনেক বড় প্রাপ্তি,,আর আমার জন্য অনেক দুঃসাধ্য ছিল।ঢাকায় থাকার কারণে,আরেকজন ভালো মানুষ,dr রুনা আক্তার দোলা ম্যাম কে দিয়ে ডেলিভারি করাই।উনার প্রতিও অনেক কৃতজ্ঞতা,কৃতজ্ঞতা আমার রিডিওলজিস্ট ম্যাম দের কেও।উনারা প্রতিবার ই আমাকে পজিটিভ কথা বলতেন,এবার দেখো,বাবু বাঁচবে ইনশাআল্লাহ।আর আমার হাজবেন্ড আর প্যারেন্টস & ফ্যামিলি খুব care করেছে প্রতিটা বেপার এই,ট্রিটমেন্ট,মেন্টালিটি,মন ভালো রাখা,,আর তাহাজ্জুদ নামাজ,যা কিনা একদিন ও বাদ দেই নী,এটাও ডা. স্বর্ণা ম্যাম এর নির্দেশনার একটি।আলহামদুলিল্লাহ।
আমার মত BOH এর রুগী,infertility র রুগী দের জন্য ম্যাডাম কাজ করছেন,বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এ।উনি ওয়েট আর স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এর জন্য online কিছু ট্রেনিং নেন।যেগুলোতে admit হয়ে আমি করেছি,আর অনেক হেল্প হইত,আমার মত আরো অনেকেই থাকে ওখানে,,সবার কথা শুনেও inspire হওয়া যায়।আর এর সাথে আছে উনার সঠিক নির্দেশনা প্রবলেম wise।আমার দেখা ও পাওয়া Best talented gynecologist & a smart sympathetic person i can say,মাশাআল্লাহ।ম্যাডাম কে আল্লাহ নেক হায়াত ও অনেক অনেক বারাকাহ দিক,আমীন।
Dr Tashnoova Ahmed
Session:2008-09